শেঁকড়ের সন্ধানে এক দশক: সেবাস্টিও সালগাদো’র Genesis

Salgado genesis-10.jpgSalgado genesis-14.jpgSalgado genesis-11.jpgSalgado genesis-1.jpgSalgado genesis-12.jpgSalgado genesis-13.jpgSalgado genesis-15.jpgSalgado genesis-16.jpgSalgado genesis-17.jpgSalgado genesis-18.jpgSalgado genesis-19.jpgSalgado genesis-2.jpgnenets siberia salgadoSalgado genesis-21.jpgSalgado genesis-22.jpgSalgado genesis-23.jpgSalgado genesis-24.jpgSalgado genesis-25.jpgSalgado genesis-26.jpgSalgado genesis-27.jpgSalgado genesis-28.jpgFierce winds keep even daytime temperatures low, as this image of a sled dog illustratesSalgado genesis-3.jpgSalgado genesis-4.jpgSalgado genesis-5.jpgSalgado genesis-6.jpgSalgado genesis-7.jpgSalgado genesis-8.jpgSalgado genesis-9.jpg

 

দশ বছর আগে একটা পোর্ট্রেইট তোলার জন্যে ঘর ছেড়েছিলেন সেবাস্টিও সালগাদো, এই বৃদ্ধ ধরনীর নবজাতক মুখের ছবি ক্যামেরায় ধরবেন বলে। পেরেছেন কি?

ছোটখাটো কোন প্রজেক্ট করা সালগাদো’র ধাতে নেই। ফটোগ্রাফী তার কাছে একটা ‘প্রসেস’; যেখানে ফটোগ্রাফারের ভিশন শুধু নয়, তার অমানুষিক অধ্যবসায়ও গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই তার গল্পগুলো অবধারিতভাবেই মহাকাব্য হয়ে যায়, মহাদেশ থেকে মহাদেশে তাদের বিস্তার। Terra, Workers আর Migrations কাজগুলোর জন্য তিনি বছরের পর বছর ছুটে বেড়িয়েছেন দেশ থেকে দেশে। এতদিন পর্যন্ত সালগাদো’র কাজগুলো ছিল যাকে বলি আমরা ‘Human condition’ ভিত্তিক। মানুষের আনন্দ, বেদনা আর জীবনযুদ্ধের এপিক, মানবসভ্যতা নামক তথাকথিক অর্জনের পিছনের যোদ্ধাদের মানবেতর জীবনের রগরগে ছবি। তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে সভ্যতার মাশুল দিতে গিয়ে মানুষ ভিটেমাটি ছাড়া হয়, কিভাবে লাখ লাখ খনি শ্রমিক দাম দিয়ে যাচ্ছে আমাদের বিলাসিতার। জীবনের দাম কি হয় অর্থহীন সোনার গহনায়? হবেনা কেন? Serra Pelada’র স্বর্ণখনিতে শ্রমিকদের অবিরাম অমানুষিক জীবনের ছবিগুলো তো সে কথাই বলে।

514zvzLpV1L

ozartsetc_sebastiao-salgado_genesis_earth-eternal_book_06-e1366146247594

সন্তানের গল্প বলে বলে হয়তো ক্লান্ত হয়েছিলেন সালগাদো। গত কয়েকশো বছরে আমরা খুব সফলভাবেই পৃথিবীর বারোটা বাজিয়েছি, কেননা আমাদের ধারনা পৃথিবী আমাদের অস্তিত্ব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা কোন গ্রহ। যে মায়ের গলা টিপে তিলে তিলে হত্যা করছে তারই অবাধ্য সন্তানেরা, তার কথাও তো বলা প্রযোজন। তাই মনুষ্যজাতির কর্মকান্ড থেকে ক্যামেরার চোখ সরিয়ে পৃথিবীর দিকে তাকালেন সালগাদো।

Genesis পুরোটাই আদি পৃথিবীর চিত্র। গ্যালাপাগোস দ্বীপপূঞ্জ, যেখানে শত শত বৈচিত্রময় প্রাণীর মিথস্ক্রিয়া দেখে ডারউইন পেয়েছিলেন বিবর্তনবাদের ধারনা, সেখানে ছবি তুলেছেন সালগাদো। শতবর্ষী এক কচ্ছপ এর ছবি তুলতে গিয়ে সালগাদোর অনুভুতি, “আমি যেই কৌতুহল নিয়ে ওকে দেখছিলাম, ওর চোখেও ঠিক সেই একই কৌতুহল। বুঝলাম, আমাদের মধ্যে আসলে কোন তফাত নেই। আমরা একই পৃথিবীর সন্তান।” অ্যান্টার্কটিকার বিশাল এক আইসবার্গ তার কাছে মনে হয় কোন স্কটিশ ক্যাসলের মতো; প্রাকৃতিক দুর্গ, যা আমরা ছেড়ে এসেছি বহুবছর আগে। সত্যিই তো, পৃথিবীতে থেকেও আমরা কত দুরে সরে গেছি পৃথিবী থেকেই!

সভ্যতা নামক যন্ত্রদানবের পা পড়েনি এমন স্থান পৃথিবীতে খুব কমই আছে। কাজটা তাই সালগাদোর জন্যে খুব কঠিন হয়ে গিয়েছিল। দশবছর ধরে তিনি খুঁজে বেড়িয়েছেন সেইব স্থান, যেগুলো আজও আদিম পৃথিবীর কথা বলে, যেখানে আজও সভ্যমানুষের থাবা খুব একটা আঁচড় কাটতে পারেনি। সালগাদো চান এই ছবিগুলো আমাদের কে আর একবার ফিরে যেতে বলবে, পৃথিবীকে দেখতে শেখাবে মমতার চোখে। সালগোদোর Genesis একটা আইডিয়া, যা যুগযুগ ধরে মানুষকে শেখাবে কেমন করে পৃথিবীকে ভালবাসতে হয়।

নিজেদের মধ্যে নিজেরা আমরা যুদ্ধ করতে পারি, পারি অর্থহীন অহংবোধ থেকে ধরীত্রিকে ক্ষতবিক্ষত করতে, কিন্তু কতদিন পারি? Genesis একটা বিশাল প্রশ্ন ছুড়ে দেয় এই অহংকারী মানুষের মুখের উপর – ‘পৃথিবী ছাড়া তোমাদের আর কোন আবাসভুমি আছে কি?’
উত্তর খুব পরিস্কার, খুব চাঁছাছোলা। কিন্তু এই প্রশ্নের উপলব্ধি আজকে খুব জরুরী। সময বড় কম।

Salgado genesis-19 Salgado genesis-25 Salgado genesis-14 Salgado genesis-13 Salgado genesis-12 Salgado genesis-10 Fierce winds keep even daytime temperatures low, as this image of a sled dog illustrates Salgado genesis-6 Salgado genesis-2 Salgado genesis-1

 

Add to Buffer
Share on LinkedInShare on Tumblr Share
This entry was posted in Thoughts and comments and tagged , , .