ফটোগ্রাফী: পর্ব – ১। ভূমিকা

শুরু করা যাক তাহলে!

ফটোগ্রাফীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:

ফটোগ্রাফীর পুরো কারিগরী ব্যপারটাকে খুব সহজ দুটো ধারনায় ভেঙ্গে ফেলা যায়। এক: যেকোন একটা দৃশ্য হতে যেই আলো আসছে, সেটাকে কোন ভাবে ধরে ফেলে একটা পর্দায় প্রতিফলিত করা। দুই: সেই প্রতিফলিত দৃশ্যকে স্থায়ীভাবে একটা মাধ্যমে ধারন করা।

প্রথম ব্যপারটি, তথা কোন একটা বিষয়বস্তুকে পর্দায় প্রতিফলিত করার বিষয়টি বহু আগে থেকেই জানা ছিল। একটি অন্ধকার চারকোনা বাক্সের সামনে তলে একটি সুইয়ের খোঁচার সমান ছিদ্র থাকলে এবং ঠিক বিপরীত দিককার তলে একটা সাদা পর্দা দেয়া হলে সেই পর্দায় উল্টোভাবে সামনের দৃশ্য ধরা পড়ে। ছিদ্রটার যায়গায় যদি একটা কাচের লেন্স বসিয়ে দেয়া যায়, তাহলে যে এই ছবি আরো স্পষ্ট হয়ে আসে, সেটা সেই ১৪০০ সালের দিকেই মানুষ জানতে পেরেছিল। কিন্তু ওই পর্যন্তই। এই ছবিকে স্থায়ীভাবে ধরার প্রযুক্তি আবিস্কার করতে লেগে যায় ৪০০ বছরেরও বেশী।

Image-1-Pinhole-camera

ছবি ১: পিনহোল ক্যামেরা। credit: buzzle.com

 

১৮০০ সালের শুরুর দিকে আবিষ্কৃত হল যে কোন একটি প্লেটকে ‘আলোক সংবেদী (light sensetive)’ রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে কোটিং করে সেখানে ছবি প্রতিফলিত করলে ছবির বিভিন্ন অংশের আলোর তীব্রতার উপর নির্ভর করে ওই প্লেটের বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন মাত্রায় বিক্রিয়া হয়। ফলশ্রুতিতে ছবিটা ফুটে ওঠে প্লেটের উপর। সমস্যা হল অন্য যায়গায়…এই ছবিকে স্থায়ী রুপ দেয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে ১৮০০ সালের গোড়ার দিকে লুই ডাগের (Louis Duguerre) এবং জোসেফ নিয়েপ (Joseph Niepce) এর যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরী হয় ‘ডাগেরোটাইপ (Duguerrotype)’ প্রসেস, যেখানে সিলভার হ্যালাইড নামের আলোক সংবেদী একটা যৌগের প্রলেপকে ব্যবহার করা হয় ছবি ধারনের মাধ্যম হিসেবে। তবে ছবি তোলার শখ হলে মিনিট পনেরো মাথা না নাড়িয়ে বসে থাকা লাগতো ক্যামেরার সামনে!

 

Image2-first-dugerrotype image

 ছবি ২: প্রথম ডগেরোটাইপ ছবি। সূত্র: উইকিপেডিয়া।

 

তিন নম্বর ছবিটি দেখুন। এটিও লুই ডাগের এর তোলা প্যারিসের একটি রাস্তার ছবি। আনুমানিক দশ থেকে বারো মিনিট ধরে ক্যামেরাতে আলো ঢোকার ব্যবস্থা করতে হয়েছিল এই ছবি তোলার জন্যে; আগেই বলেছি যে ডাগেরোটাইপে একটা ছবি ধারন করতে দীর্ঘ সময় লাগতো, কেননা মাধ্যমটি খুব একটা আলোক সংবেদী করা যায়নি তখনও। মজার ব্যপার হল, ছবিতে দুইজন মানুষের উপস্থিতি (খেয়াল করে দেখুন)| এত লম্বা সময় ধরে ছবি এক্সপোজ করলে সাধারনত ছবিতে চলমান কোন কিছু ধরা পড়েনা (এক্সপোজার নিয়ে সামনে লেকচার আসছে), কিন্তু এই দুইজনের একজন ছিল জুতা পালিশকারী, আর একজন তার কাস্টোমার। যে কারনে এরা মোটামুটি স্থির ছিল এক যায়গায়।

 

Boulevard_du_Temple_by_Daguerre

  ছবি ৩: আরেকটি ডগেরোটাইপ ছবি – প্যারিসের রাস্তা । সূত্র: উইকিপেডিয়া।

 

যাই হোক। এই মুল প্রসেসগুলোতো আয়ত্ত্বে চলে আসলো। এরপর শুরু হল প্রযুক্তির উন্নয়ন। ডগেরোটাইপ ছিল পজিটিভ প্রসেস, অর্থাৎ সরাসরি মুল ছবিটিই চলে আসতো পর্দায়, যদিও এক্সপোজার টাইম ছিল অনেক বেশি। পরবর্তীতে দেখা গেল, ছবির উল্টো ছবিটা (অর্থাৎ নেগেটিভ) অনেক দ্রুতগতিতেই পর্দায় ধরা পড়ে। এটা জানার পর, এক্সপোজার টাইম অনেক কমে গেল, একটা ছবি তোলার জন্য কাউকে আর ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হতো না ক্যামেরার সামনে। ১৮০০ সালের শেষের দিকে জর্জ ইস্টম্যান উদ্ভাবন করলেন একধরনের ফিল্ম যেটাকে রোল আকারে পেঁচিয়ে ক্যামেরায় ভরে ফেলা যেত। ব্যাস! ক্যামেরা হয়ে গেল এইবার মানুষের হাতের নাগালের বিষয়, পোর্টেবল। জগতখ্যাত ‘ইস্টম্যান কোডাক’ তারই গড়া কোম্পানী।

Image4-eastman-kodak
 ছবি ৪: জর্জ ইস্টম্যানের ডিজাইন করা ক্যামেরা। সূত্র:  উইকিপেডিয়া।

 

এরপর সময়ের সাথে সাথে ক্যামেরা এবং ফিল্মের অনেক ধরনের মডিফিকেশন হয়েছে…ছোট ক্যামেরা, দ্রুত গতির ক্যামেরা, বেশি বা কম আলোকসংবেদী ফিল্ম, ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু মুল প্রসেস সেই একই।

আর তারপর? দুনিয়াটাই তো ডিজিটাল হয়ে গেল। ডিজিটাল ক্যমেরা কিভাবে কাজ করে সেটা বলবো পরে। প্রথম ডিজিটাল ক্যামেরার ছবি দিয়ে লেকচারের এই অংশ শেষ করছি।

image 5- first-digital-camera-ever
ছবি ৫: স্টিভ স্যাশনের আবিষ্কৃত ইলেকট্রনিক ক্যামেরা। তিনি ছিলেন ইস্টম্যান কোডাক কোম্পানীর একজন ইঞ্জিনিয়ার।

 

ফিল্ম প্রসেস:

ভেবেছিলাম বিশদ আলোচনা করি। পরে দেখলাম আমি নিজেও খুব একটা বুঝিনা, আর যেহেতু ফিল্ম ফটোগ্রাফী নিয়ে খুব একটা কথা বলবো না, আগেই বলেছি, কাজেই আর সেধে পড়ে আর এই বিপত্তি ঘাড়ে নেব কেন বলুন! তার চেয়ে সংক্ষেপে একটু বলি সাদাকালো ফিল্ম প্রসেস এর কথা:

১. ফিল্ম এর উপর থাকে ‘সিলভার হ্যালাইড’ নামের একটা রাসায়নিক যৌগের আস্তর।

২. যখন এই ফিল্মের উপর একটা দৃশ্যের আলোকে ফোকাস করা হয়, তখন আলোকসংবেদী এই সিলভার হ্যালাইড বিক্রিয়ার মাধ্যমে ভেঙে সিলভারে পরিনত হয়। দৃশ্যের যেখানে খুব একটা আলো নেই, সেখানে বিক্রিয়ার মাত্রাও হয় খুব কম। আর অন্ধকার অংশগুলিতে কোন বিক্রিয়া হয় না, সিলভার হ্যালাইড অবিকৃত থেকে যায়।ছবি তোলার পর ফিল্মকে বলা হয় ‘এক্সপোজড (Exposed) ফিল্ম’।

৩. এই ‘এক্সপোজড’ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট এর সময় আর একটি রাসায়নিক দ্রবন ব্যবহার করা হয়, যা ফিল্ম থেকে অবিকৃত সিলভার হ্যালাইড কে সরিয়ে ফেলে শুধু মাত্র সিলভারকে রেখে দেয়। কাজেই শেষ পর্যায়ে আমরা পাই একটা ফিল্ম যেখানে আলোর তীব্রতার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন পরিমানে সিলভার জমা হয়ে আছে। নেগেটিভ এ উজ্জ্বল আলো পড়া অংশগুলো অনেক সিলভার জমার কারনে ডার্ক হয়ে থাকবে।এবার এই নেগেটিভ ইমেজের ভেতর দিয়ে আলো ফেলতে হবে আলোক সংবেদী ‘ফটোপেপার’ এর উপর। আলোর তীব্রতার উপর ভিত্তি করে প্রকৃত ছবিটা ফুটে উঠবে কাগজে।

 

ডিজিটাল প্রসেস:

মূল পার্থক্য খুব সহজ। ফিল্ম ক্যামেরায় যেখানে ছবি ধারন করা হয় রাসায়নিক বিক্রিয়ার ‘এন্ড প্রোডাক্ট’ হিসেবে, সেখানে ডিজিটাল ক্যামেরা ছবি ধারন করে ‘বাইনারী ডাটা’ হিসেবে। অর্থাৎ ডিজিটাল ক্যামেরাগুলোর মধ্যে থাকে একটা ছোট কম্পিউটার, যা লেন্স এর মধ্যে দিয়ে প্রবেশকরা আলোর তীব্রতাকে বাইনারী সংখ্যার একটা সিরিজ হিসেবে রেকর্ড করে। কাজেই, ফিল্মের বদলে ডিজিটাল ক্যামেরায় থাকে একটা ইলেকট্রনিক সেন্সর। এই সেন্সরে বসানো থাকে হাজার হাজার অতিক্ষুদ্র ‘সেল’, যারা আলোর তীব্রতাকে ইলেকট্রনিক চার্জে রুপান্তরিত করে। যেহেতু একটা দৃশ্যে নানা রকম তীব্রতার আলো থাকে, কাজেই সেন্সরের প্রতিটি সেলই ভিন্ন ভিন্ন তীব্রতার আলো ‘রিসিভ’ করবে এবং ফলশ্রুতিতে ভিন্নমাত্রার চার্জ উৎপন্ন হবে প্রত্যেক সেল এ। সব সেল থেকে এই চার্জের তীব্রতার মাত্রা রেকর্ড এবং প্রসেস করেই ‘Final image’ তৈরী হয়। মূলতঃ দুইরকম সেন্সর আছে; সিসিডি (CCD) এবং সি-মস (CMOS). দু’জনেরই মূল কাজই এক, কিন্তু ম্যানুফ্যাকচারিং প্রসেস এর ভিন্নতার কারনে সিসিডি ছবির মান অনেক ভাল দেয, তবে শক্তি খরচ করে সি-মস এর তুলনায় অনেক বেশী। এই কারনে বর্তমানে বেশিরভাগ ডিজিটাল ক্যামেরাতেই সি-মস সেন্সর ব্যবহৃত হয়, যদিও জ্যোর্তিবিদ্যা কিংবা অন্যান্য গবেষনামূলক কাজে সিসিডি সেন্সর গুরুত্বপূর্ণ।

পুরো ব্যপারটি আরো জটিল; যেমন ছবির বিভিন্ন অংশের রং এর তথ্য ধারনের জন্যে সেন্সরের উপর একটা ‘বেয়ার ফিল্টার’ বসানো থাকে। এই ব্যপারটি আলোচনা করলাম না জটিলতা এড়ানোর জন্যে।

Image 6-3sensors

ছবি ৬: ডিজিটাল ক্যামেরা’র সেন্সর।

ডিজিটাল ক্যামেরাই এখন ফটোগ্রাফীর মূল মাধ্যম, যদিও অনেকে শখের বশে এখনও ফিল্ম নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করে থাকেন। যেকোন নতুন প্রযুক্তির মতই ডিজিটাল ক্যামেরাও খুব উৎসাহের সাথে গৃহীত হয়নি অভিজ্ঞ ফটোগ্রাফারদের কাছে, অনেকেই এর সমালোচনা করেছেন। কিন্তু এই একটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির উৎকর্ষ দেখার মতো। মাত্র কয়েকবছরেই এই ক্যামেরাগুলোর ছবির মান ফিল্ম কে ছাড়িয়ে গেছে। এখন নতুন পুরানো প্রায় সব ফটোগ্রাফারই ডিজিটালে ছবি তোলেন। আর কেনই বা তুলবেন না? ছবি তোলার সাথে সাথে দেখা যাচ্ছে, আশানুরুপ না হলে মুছে ফেলা যাচ্ছে। এক্সপেরিমেন্ট এর সুযোগ অফুরন্ত! শুরুতে ডিজিটালের ছবির ‘মেগাপিক্সেল’ (পরে আলোচনা করা হবে) খুব একটা বেশি ছিলনা, কাজেই খুব বড় প্রিন্ট করা যেতনা। এখন মেগাপিক্সেল এবং সেন্সর সাইজ বেড়েছে, ছবি বড় করে প্রিন্ট করার প্রযুক্তিও উন্নত হয়েছে। একটা ৩০ ফুট X ৩০ ফুট বিলবোর্ডে ও ৮ থেকে ১০ মেগাপিক্সেল এর ছবি খুব ভালভাবেই ফুটিয়ে তোলা যায়। ডিজিটালের এই অব্যহত আগ্রাসনের কারনে কোম্পানীগুলো ফিল্ম তৈরী করা বন্ধ করে দিচ্ছে একে একে। ক্যানন, নাইকন এবং অন্য কোম্পানীগুলো আর ফিল্ম ক্যামেরাও তৈরী করছেনা। কাজেই বর্তমান এবং ভবিষ্যতের পৃথিবী প্রস্তুত ডিজিটাল ফটোগ্রাফীর জন্যে, সেকথা জোর দিয়েই বলা যায়।

 

সৃষ্টিশীলতা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ফটোগ্রাফী:

“দোস্ত, হলে দেখি গিটারবাদকের অভাব নাই। দুইমাস গিটার শিখে, তারপর ঘ্যাচিং ঘ্যাচিং কি জানি বাজায়, আর বেসুরা গলায় গান গায়।”

“দোস্ত, সবার হাতে হাতে দেখি ক্যামেরা। তোরা ক্যামেরা দিয়া হুদাই ভাব নিস। আমি একটা কিনি, আমিও ছবি তুলুম।”

“মনির, ক্যামেরার ক্রেজ গেছে গা। এখন সবাই বাইসাইকেল কিনতে চায়। এইটাই নতুন ফ্যাশন।”

জ্বি হ্যা। এই কথাগুলো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে শোনা। আমার ধারনা আপনারাও শুনেছেন একই ধরনের মন্তব্য। কিন্তু দেখুন, এত গিটারবাদক আশে পাশে, তারপরও আইয়ুব বাচ্চুর মত গিটারকে কয়জন কাঁদাতে পারে? একবার এক কনসার্টে ওনার গিটারের কাজ হা করে দেখছিলাম, কেমনে করে আন্দাজ করারও চেষ্টা করিনি। স্টিভ ম্যককারির আফগান গার্ল তো শুধুই একটা ছবি, তারপরও সেই ছবি কি করে সারা দুনিয়ায় আলোড়ন তোলে? অথবা ধরুন নিক আট এর তোলা ভিয়েতনাম যুদ্ধের সেই ছবি, যেখানে একটা বাচ্চা মেয়ে প্রাণের ভয়ে দৌড়ে পালাচ্ছিল নাপাম বোমার ভয়ে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে এই ছবি অনেক বড় ভূমিকা রেখেছিল।

Sharbat_Gula

ছবি ৭: আফগান গার্ল। ফটোগ্রাফার: স্টিভ ম্যাককারী

Vietnam Napalm 1972

ছবি ৮: নাপাম গার্ল, ফটোগ্রাফার: নিক আট, ১৯৭২.

adams_moon_and_half_dome

ছবি ৯: মুনরাইজ, ফটোগ্রাফার: অ্যানসেল অ্যাডামস। আজো শত শত ফটোগ্রাফার এই ফ্রেম তোলার জন্যে বছরের একটা বিশেষ সময়ে নিদৃষ্ট একটা জায়গায় জড়ো হয়।

 

আমার মতে সৃষ্টিশীলতা হচ্ছে সেই বস্তু যা আমাদেরকে অন্য সকল প্রাণী থেকে বিশেষ ভাবে আলাদা করেছে। আর শিল্প বা আর্ট হল একটা বৈশ্বিক ভাষা যা সমস্ত প্রচলিত ভাষার বাঁধা পেরিয়ে (যেটাকে আমরা বলি Language barrier) দেশ জাতি নির্বিষেশে সকল মানুষের কাছে একটা সত্যকে, অথবা একটা মেসেজকে পৌছেঁ দেয়। সব মানুষের মধ্যেই কম বেশি সৃষ্টিশীলতার চর্চা থাকে; সবাই চায় তার কাজে নিজস্বতার একটা ছোঁয়া রাখতে। একটা পর্যায়ে মানুষ উপলব্ধি করে যে ঠিক মুখের ভাষা দিয়ে ভূগলের বাঁধা পেরুনো যায় না।

PicassoGuernica

ছবি ১০: গুয়ের্নিকা, যুদ্ধের ভয়াবহতা তুলে ধরে শিল্পী পাবলো পিকাসো’র প্রতিবাদী কাজ।

 

কেন জানি মনে হয়, ফটোগ্রাফী বা গিটারের শুরুটা তুলনামূলকভাবে সহজ। পেইন্টিং এর শুরুটা অনেক কঠিন মনে হয় আমার কাছে, তবে অনেকে দ্বিমত পোষন করতে পারেন। শুরুটা সহজ বলেই এই মাধ্যমগুলোতে উৎকর্ষ সাধন ততটাই কঠিন। ফটোগ্রাফীর পুরো প্রসেস এর একটা ক্ষুদ্র অংশ হচ্ছে ক্যামেরার শাটার এ চাপ দেয়া। এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে ফটোগ্রাফার এর ভিশন…ব্যপারটা অনেকটা আপনার কল্পনাশক্তি, বিষয়বস্তু খুঁজে বের করার প্রখর দৃষ্টি এবং সঠিক মুহুর্তে ক্লিক করতে পারা- এই গুণগুলোর সংমিশ্রণ বলে মনে করতে পারেন। এবং এই বিষয়গুলো চাইলেই সহজে, বা খুব দ্রুত আয়ত্ত্ব করে ফেলা যায় না। হেনরি কার্টিয়ের ব্রেসন বলেছেন “আপনার প্রথম ১০,০০০ ছবি হলো আপনার তোলা সবচেয়ে খারাপ ছবি।” তা এই ডিজিটালের যুগে দশহাজার কে দশ দিয়ে গুণ করে ফেলা যায়, কি বলেন? নাকি একশ দিয়ে গুণ করবো?

তো মোদ্দা কথা হলো, অন্য সব আর্ট ফর্মের মতই, ফটোগ্রাফীও একটা সাধনার বিষয়। সময় লাগে, শ্রম লাগে এবং ভালবাসা তো অবশ্যই লাগে। একটা সাধারণ বিষয থেকে অসাধারন ফ্রেম বের করে আনার দক্ষতা অর্জনের জন্যে গলায় ক্যামেরা ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়ানোর চেয়ে চোখ দিয়ে একটা ইন্টারেস্টিং সাবজেক্ট খুজেঁ বের করার চর্চাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্যপারটি আয়ত্ত্ব হয়ে গেলে ক্যামেরার টেকন্যিকাল বিষয় গুলো আপনিই হাতে চলে আসবে। যদি ক্যামেরার সব কন্ট্রোল বোঝার পরও ছবি তোলার উপযোগী বিষয় চোখের নাগালে আনতে না পারেন, তাহলে যেই ছবি হবে সেগুলো স্ন্যাপশট, আপনার মননশীলতার ছোঁয়া থাকবে না তাতে।

এই সেকশানের কথাগুলো কেমন জানি অসংলগ্ন হয়ে গেল। তারপরও যদি এই আলোচনা আপনাদের চিন্তার খোরাক যোগায়, সেটাই যথেষ্ট।

 

ফটোগ্রাফীর শ্রেণীভেদ (Genre)

বড়ই গোলমেলে ঠেকে আমার কাছে এই শ্রেণীবিন্যাস ব্যপারটা। সবচেয়ে অসহায় লাগে যদিও অণুজীব বিজ্ঞানের খুটিনাটি শ্রেণীবিন্যাস মনে রাখতে গেলে…সেদিক দিয়ে আলোকচিত্রের শ্রেণীভেদ অনেক সহজ! আলোকচিত্রের শ্রেণীবিন্যাস কে দু’টো ভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে দেখা সম্ভব। এক হল ‘ফটোগ্রাফ’ এর শ্রেণীবিন্যাস। আর এক হলো ‘ফটোগ্রাফার’ এর রকমভেদ, তথা পেশাগত পার্থক্য। এই দু’রকমকে অনেকেই গুলিয়ে ফেলেন, এই জন্যে আলাদা করে দিলাম।

 

ফটোগ্রাফ এর রকমভেদ: যেমন ধরুন-

* ল্যান্ডস্কেপ: সাধারণতঃ প্রকৃতির ছবি, অনেক বড় যার বিস্তার। ছবিতে প্রাণীর চেয়ে প্রকৃতির মূল উপাদানগুলো যেমন আকাশ, পানি, সমুদ্র…এই বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। আবার অনেকে তোলেন ‘আরবান ল্যান্ডস্কেপ’, যেখানে শহরের জড় উপাদানগুলোও ছবি তে আসতে পারে।

ছবি ১১: ল্যান্ডস্কেপ; ফটোগ্রাফার: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান

* পোরট্রেইট: ছবির মুখ্য বিষয় মানুষ, মানুষের মুখ। সাধারণতঃ একজন বা কয়েকজন মানুষের মুখের ছবি, যা তাদের ব্যক্তিত্বের কোন বিশেষ একটি দিক তুলে ধরে।

ছবি ১২: পোরট্রেইট; ফটো: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান

* ম্যাক্রো: খুবই কাছথেকে নেয়া ডিটেইল এর ছবি। ম্যাক্রো ছবির সাবজেক্ট অনেককিছুই হতে পারে..পোকামাকড় থেকে শুরু করে একটা জড়বস্তুর কোন একটা অংশের ক্লোজআপ। ম্যাক্রো ছবি তোলার জন্যে খুব কাছ থেকে ফোকাস করতে পারে, এমন লেন্স প্রয়োজন হয়।

ছবি ১৩: ম্যাক্রো; ফটো: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান

* অ্যাকশন: যে ছবিতে খুব দ্রুতগতির কোন সাবজেক্ট কে তুলে ধরা হয়। সেটা হতে পারে দ্রুতগামী কোন গাড়ি, অথবা কোন দৌড় প্রতিযোগিতার মূহুর্ত, ইত্যাদি।

ছবি ১৪: এ্যাকশন; ফটো: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান

* স্টিল লাইফ: জড়বস্তুর ছবি যেটা আলো ছায়ার কারুকাজের কারণে একটা আবহ তৈরী করে।

ছবি ১৬: স্টিল লাইফ; ফটো: মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান

 

পেশাগত দিক থেকে বলতে গেলে ফটোগ্রাফীর প্রচুর রকমফের আছে। ফ্যাশন, ইভেন্ট, আর্কিটেকচারাল, ওয়েডিং, স্পোর্টস, ওয়াইল্ডলাইফ, লাইফস্টাইল…ইত্যাদি ইত্যাদি। এছাড়া একটা জনপ্রিয় বিষয় হলো স্ট্রিট ফটোগ্রাফী, যেখানে ফটোগ্রাফাররা রাস্তায় চলতে চলতে স্বতস্ফুর্ত (candid) মূহুর্তগুলোর ছবি তোলার চেষ্টা করেন। তবে একটা জিনিস খেয়াল রাখবেন। যেই ধরনের পেশাদার ফটোগ্রাফারই হোন না কেন, তারা যেই ছবি গুলো তোলেন, সেগুলো ল্যান্ডস্কেপ থেকে শুরু করে ম্যাক্রো, সবধরনেরই হতে পারে। যেমন ধরুন একজন স্পোর্টস ফটোগ্রাফার অ্যাকশন ছবি যেমন তোলেন, তেমনি একজন প্লেয়ার এর পোরট্রেইট ও তোলেন।

 

17888_10151360576016811_1178935075_n

ছবি ১৭: ফ্যাশন; ফটোগ্রাফার: আবির আবদুল্লাহ

 

সাংবাদিকতায় ফটোগ্রাফী: (Photojournalism)

সংবাদমাধ্যমে, বিশেষ করে প্রিন্ট মিডিয়ায় ফটোগ্রাফীর গুরুত্ব অস্বীকার করার কোনই উপায় নেই। কোন এক বিচিত্র কারনে মানুষ ছবি দেখতে খুবই পছন্দ করে। কলামের পর কলাম জুড়ে লেখা একটা খবর যতখানি মানুষের কাছে আবেদন তৈরী করে, তার থেকে অনেক বেশি চোখে আটকে যায় একটা ছোট্ট ছবি।

আমার মতে সাংবাদিকতায় ফটোগ্রাফীর প্রয়োজন দুই ধরনের। এক হল,  যখন ছবি একটা খবরকে আরো বেশি স্পষ্ট ভাবে পাঠকের কাছে তুলে ধরে।আর এক হল, যখন ছবি নিজেই গল্পটা বলে। পত্রিকায় দেখবেন প্রায়ই একটা ছবির সাথে একটা ছোট্ট লাইন জুড়ে একটা খবর দেয়া হয়ে যায়। নিচের ছবির কথাই ধরুন। অদ্ভুত তাই না? এই ছবির আবেদন অত্যন্ত তীব্র; হয়তো একটা ছোট ক্যাপশন দরকার হবে যারা ঘটনা সম্পর্কে জানে না তাদের জন্যে, অন্যথায় ক্যাপশনও প্রয়োজন নেই।

image-17-rahul talukder

ছবি ১৮: ফটোজার্নালিজম (রানা প্লাজা’র ভয়াবহ দুর্ঘটনার ফলোআপ); ফটোগ্রাফার: রাহুল তালুকদার

 

অন্য যেকোন পেশাজীবি ফটোগ্রাফার থেকে ফটোসাংবাদিকের একটা মৌলিক পার্থক্য আছে। আমরা সবাই জানি আলোকচিত্র মূলতঃ ফটোগ্রাফারের নিজের দৃষ্টিভঙ্গিরই বহিঃপ্রকাশ। সব ফটোগ্রাফার এরই স্বাধীনতা আছে নিজের তোলা ছবিকে প্রয়োজনীয় (অথবা খেয়ালখুশীমত) পরিবর্তন করে ‘ফাইনাল আউটপুট’ টি সবার সামনে তুলে ধরার। কিন্তু ফটোসাংবাদিকের এই স্বাধীনতা নেই। ফটোসাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব হল প্রকৃত ঘটনাকে অবিকৃত অবস্থায় ছবি তে তুলে ধরা, ছবির কোন অংশ কোনভাবেই মুছে ফেলা বা ছবি তোলার পর তাতে কোন কিছু যোগ করা যাবে না। আপনি শখের ফটোগ্রাফার, আপনার ছবির আকাশে দু’টো পাখি জুড়ে দিলেন, সেটা আপনার অধিকার। কিন্তু ফটোসাংবাদিকের আকাশে যদি কোন পাখি না থেকে থাকে, সেটাই সত্যি, সেটাই দেখাতে হবে। ফটোগ্রাফীর এথিকস নিয়ে পরে কোন একটা লেকচারে কিছুটা আলোচনা করতে চাই।

আজকে এপর্যন্তই। সবাই ভাল থাকবেন। পরবর্তী লেকচারগুলোতে চেষ্টা করবো ভয়েস এবং স্লাইডশো যোগ করতে।

ধন্যবাদ!! সবাইকে বিশ্ব আলোকচিত্র দিবসের শুভেচ্ছা!

 

Add to Buffer
Share on LinkedInShare on Tumblr Share
Posted in Tutorials

ছবির শেঁকড়: ১

ছবির শেকড় ১: 

THE DAY BEFORE…AYODHYA
Photographer: Raghu Rai/ 1992.
——-

872346947a3102d07be9c869a3b617fb

প্রত্যাশার বাইরে কোন ঘটনা ঘটবেনা ধরে নিয়েই আমরা পৃথিবীতে দিনযাপন করি। আগামীকাল বাকি কাজটুকু শেষ করার প্রত্যাশায় নিশ্চিন্ত মনে আমরা ঘুমাতে যাই; আগামীকাল তো আসছেই কাল সকাল বেলা! অন্তরে উল্লাস নিয়ে তা্ই আমরা চেপে বসি বৃহৎ পাখির পেটের ভিতর; ১২ ঘন্টা পরই তো দেখা হবে প্রিয়জনের সাথে, বিমানবন্দরের ঠিক তিন নম্বর গেট এ।

সেই রকম একটা সুন্দর নিকট ভবিষ্যতের প্রত্যাশাতেই, আগামীকালের ঠিক আগের দিন সকালে একজন সাধু এক পথচারীর হাতে তুলে দিচ্ছিলেন প্রাসাদ। আর ঠিক সেই মুহুর্ত বন্দি হয়ে যায় আর এক সাধকের ক্যামেরায়। হ্যাঁ, আলোকচিত্র শিল্পের সাধক রঘু রাইয়ের কথা বলছি।

কত রকমের তো ছবি হয় – ছড়ার মতো, ছোট গল্পের মতো, বোবা কান্নার মতো। কিন্তু রঘু রায়ের মতন এক ফ্রেমে মহাকাব্য সৃষ্টি করতে পারঙ্গম খুব কম ফটোগ্রাফারই। ছবির সিরিজ দিয়ে গল্প বলার তেমন কোন প্রয়োজন হয়নি রঘু রাইয়ের, কেননা একটা বিস্তারিত গল্প বলার জন্য তা্ঁর একটা ছবিই যথেষ্ট। কিভাবে এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশে একজন ফটোগ্রাফার আত্মস্থ আর ক্যামেরাস্থ করে ফেলেন একটা বড়সড় গল্প, সেটা একটা বিস্ময়ই বটে। অন্য কোন ফটোগ্রাফারের একটা ছবির গল্প বুঝতে যদি দর্শকের তিরিশ সেকেন্ড লাগে, রঘুর ছবি উপলব্ধি করতে তার লেগে যাবে তিরিশ মিনিট।

এই ছবিটাই দেখি। সাধুকে দেখি না, কিন্তু সাধুর মুখের প্রতিবিম্ব যেন পড়েছে ওই পথচারীর শান্ত, সদাহাস্যজ্বল মুখে। ঠিক তার পিছনেই একটা বিশাল হুলো হনুমান শান্ত হয়ে বসে আছে, ফ্রেমে সৃষ্টি করেছে তীব্র বৈপরীত্য। দুরে দালানকোঠাগুলো ঢেকে আছে ঘন কুয়াশায়। সুন্দর একটা সকাল, একটা প্রতিদিনের প্রত্যাশিত সকাল। শুধু এটুকুতেই শেষ হয়ে যেত হয়তো। একটা ভাল ছবির জন্য আর কি প্রয়োজন? কিন্তু ওই যে বললাম, রঘুর ছবি মহাকাব্যের মতো। কবিতার অলংকারগুলো তো এখনও দেখা বাকি! কুকুরের পায়ে হেঁটে যাওয়া সাধুকে লক্ষ্য করেছেন তো? কিংবা একদম পিছনে আরো কয়েকজন পথচারী হেঁটে আসছে, সেটা? হনুমানজীর একদম মাথার উপর যে কৌণিক ভাবে দুটো হাতি দাড়িয়ে আছে, সেটা? রঘুর ছবির বিশেষত্বই এখানে। তাঁর ছবিতে কোন বিষয়ই মামুলী নয়, কম্পোজিশনের দুর্বলতার কারণে কোনকিছুই হারিয়ে যায়না, বরং প্রত্যেকটি বিষয়েরই কিছু না কিছু বলার থাকে। ফোরগ্রাউন্ড আর ব্যাকগ্রাউন্ড এককার হয়ে যায়, কিন্তু তারপরও কেন জানি সবকিছু পৃথকভাবে ধরা পড়ে। হ্যাঁ, শুধু বোদ্ধার চোখেই ধরা পড়ে। ছবির সামনে দাড়িয়ে ধ্যানমগ্ন হয়ে যান, আস্তে আস্তে গল্প ডালপালা মেলতে শুরু করবে চোখের সামনেই। ভাল কথা, পেছনের হাতির পায়ের গোড়ায় যে আর একজন হনুমান বসে আছেন, সেটা খেয়াল করেছেন?

বলছিলাম প্রত্যাশিত পৃথিবীর কথা। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরের যেই দিন রঘু রায়কে উপহার দিয়েছিল অযোধ্যার এই সুন্দর সকাল, ঠিক তার পরের দিনই পৃথিবীকে উপহার দিয়েছিল হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা। বাবরি মসজিদ ভাঙার পরপর যেই রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় ২০০০ এর ও বেশি মানুষ প্রাণ হারায়।

“ফটোগ্রাফার, তুমি কি? শয়তান, না সাধু?”
“কোনটাই না। পৃথিবীর পথে আমি ধুলো, কিন্তু সময়কে এক নিমেষে পাথর করে দিতে পারি।”

Knoxville, TN/ February 7, 2014.

Add to Buffer
Share on LinkedInShare on Tumblr Share
Posted in Inside the image: ছবির শেঁকড় Tagged , , , , , , , , , , , |

The limit pushers

This is weird, isn’t it? Most of us live an entire lifetime without knowing where our foods grow, where our clothes are sewn and who sharpen our knives which we gently use to chop the veggies. It makes perfect sense to assume that these things came from nowhere and ended up on and around us to make lives easy. We have got the money;  the magic papers that rhyme perfectly with our demands. Our lives are perfect; with cold air and smooth roads to drive on for thousand miles. We manifest our limitless strength to change the society by grinding the mighty pens on paper; although we have no idea about how that society functions.

 

Every single thing that gives us the protective shade of a tree has a deep-running and widespread root system invisible to the unwilling eyes. Those roots are nourished by the sweat of millions of people whom we don’t want to meet in our everyday life. These people constantly push their limits as human beings to make enough space for the society to breathe. They embrace the filth of your sewers and burn in the same fire that shaped the steel of your stylish bicycle. They form the base of a pyramid, where a select few on the apex enjoy the lavishness of life.

 

This series is a meaningless tribute to them.

Image (10).jpgthe limit pushers-1.jpgthe limit pushers-10.jpgthe limit pushers-11.jpgthe limit pushers-12.jpgthe limit pushers-13.jpgthe limit pushers-14.jpgthe limit pushers-15.jpgthe limit pushers-16.jpgthe limit pushers-18.jpgthe limit pushers-2.jpgthe limit pushers-20.jpgthe limit pushers-21.jpgthe limit pushers-3.jpgthe limit pushers-4.jpgthe limit pushers-5.jpgthe limit pushers-6.jpgthe limit pushers-7.jpgthe limit pushers-8.jpg

 

 

Add to Buffer
Share on LinkedInShare on Tumblr Share
Posted in Uncategorized

There is no tomorrow

Drink, my dear friend, because today is the absolute truth and tomorrow is an illusion. My friend, lets merry, cause today is the time to do so. Sweetie, let me pick you up and let’s make love in a cottage. Don’t be afraid that I might leave you tomorrow, because as I told you, there is no tomorrow.

This is New Orleans. A city stuck in perpetual present tense. No one dreams in New Orleans, because the reality is grander than the grandest dream they’ve ever dreamt. It’s colorful, full of smiles and beautiful faces. The air is heavy with the smell of booze and the cacophony of amazement. In the narrow alleys of the French Quarter, people meet people, drink together and dance in the middle of the street. In this wonderland every debuchary is allowed, every crime forgiven.

NOLA-1.jpgNOLA-10.jpgNOLA-11.jpgNOLA-12.jpgNOLA-13.jpgNOLA-14.jpgNOLA-15.jpgNOLA-16.jpgNOLA-17.jpgNOLA-18.jpgNOLA-19.jpgNOLA-2.jpgNOLA-20.jpgNOLA-21.jpgNOLA-22.jpgNOLA-23.jpgNOLA-24.jpgNOLA-25.jpgNOLA-26.jpgNOLA-27.jpgNOLA-28.jpgNOLA-29.jpgNOLA-3.jpgNOLA-30.jpgNOLA-31.jpgNOLA-32.jpgNOLA-33.jpgNOLA-34.jpgNOLA-35.jpgNOLA-36.jpgNOLA-37.jpgNOLA-38.jpgNOLA-39.jpgNOLA-4.jpgNOLA-40.jpgNOLA-41.jpgNOLA-42.jpgNOLA-43.jpgNOLA-44.jpgNOLA-45.jpgNOLA-46.jpgNOLA-47.jpgNOLA-48.jpgNOLA-5.jpgNOLA-6.jpgNOLA-7.jpgNOLA-8.jpgNOLA-9.jpg

There is a price to pay if you are heavily in love with this city. You will find unfortunate lovers beside every street of New Orleans. A bottle of cheap beer in hand, eyes closed and mouth open. A fly hovering over their tongue in search of the sweetness that hooked them to this city a long time ago.

 

They forgot their way out of the illusion of presence.

 

Add to Buffer
Share on LinkedInShare on Tumblr Share
Posted in Stories Tagged , , , , , |

শেঁকড়ের সন্ধানে এক দশক: সেবাস্টিও সালগাদো’র Genesis

Salgado genesis-10.jpgSalgado genesis-14.jpgSalgado genesis-11.jpgSalgado genesis-1.jpgSalgado genesis-12.jpgSalgado genesis-13.jpgSalgado genesis-15.jpgSalgado genesis-16.jpgSalgado genesis-17.jpgSalgado genesis-18.jpgSalgado genesis-19.jpgSalgado genesis-2.jpgnenets siberia salgadoSalgado genesis-21.jpgSalgado genesis-22.jpgSalgado genesis-23.jpgSalgado genesis-24.jpgSalgado genesis-25.jpgSalgado genesis-26.jpgSalgado genesis-27.jpgSalgado genesis-28.jpgFierce winds keep even daytime temperatures low, as this image of a sled dog illustratesSalgado genesis-3.jpgSalgado genesis-4.jpgSalgado genesis-5.jpgSalgado genesis-6.jpgSalgado genesis-7.jpgSalgado genesis-8.jpgSalgado genesis-9.jpg

 

দশ বছর আগে একটা পোর্ট্রেইট তোলার জন্যে ঘর ছেড়েছিলেন সেবাস্টিও সালগাদো, এই বৃদ্ধ ধরনীর নবজাতক মুখের ছবি ক্যামেরায় ধরবেন বলে। পেরেছেন কি?

ছোটখাটো কোন প্রজেক্ট করা সালগাদো’র ধাতে নেই। ফটোগ্রাফী তার কাছে একটা ‘প্রসেস’; যেখানে ফটোগ্রাফারের ভিশন শুধু নয়, তার অমানুষিক অধ্যবসায়ও গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই তার গল্পগুলো অবধারিতভাবেই মহাকাব্য হয়ে যায়, মহাদেশ থেকে মহাদেশে তাদের বিস্তার। Terra, Workers আর Migrations কাজগুলোর জন্য তিনি বছরের পর বছর ছুটে বেড়িয়েছেন দেশ থেকে দেশে। এতদিন পর্যন্ত সালগাদো’র কাজগুলো ছিল যাকে বলি আমরা ‘Human condition’ ভিত্তিক। মানুষের আনন্দ, বেদনা আর জীবনযুদ্ধের এপিক, মানবসভ্যতা নামক তথাকথিক অর্জনের পিছনের যোদ্ধাদের মানবেতর জীবনের রগরগে ছবি। তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে সভ্যতার মাশুল দিতে গিয়ে মানুষ ভিটেমাটি ছাড়া হয়, কিভাবে লাখ লাখ খনি শ্রমিক দাম দিয়ে যাচ্ছে আমাদের বিলাসিতার। জীবনের দাম কি হয় অর্থহীন সোনার গহনায়? হবেনা কেন? Serra Pelada’র স্বর্ণখনিতে শ্রমিকদের অবিরাম অমানুষিক জীবনের ছবিগুলো তো সে কথাই বলে।

514zvzLpV1L

ozartsetc_sebastiao-salgado_genesis_earth-eternal_book_06-e1366146247594

সন্তানের গল্প বলে বলে হয়তো ক্লান্ত হয়েছিলেন সালগাদো। গত কয়েকশো বছরে আমরা খুব সফলভাবেই পৃথিবীর বারোটা বাজিয়েছি, কেননা আমাদের ধারনা পৃথিবী আমাদের অস্তিত্ব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা কোন গ্রহ। যে মায়ের গলা টিপে তিলে তিলে হত্যা করছে তারই অবাধ্য সন্তানেরা, তার কথাও তো বলা প্রযোজন। তাই মনুষ্যজাতির কর্মকান্ড থেকে ক্যামেরার চোখ সরিয়ে পৃথিবীর দিকে তাকালেন সালগাদো।

Genesis পুরোটাই আদি পৃথিবীর চিত্র। গ্যালাপাগোস দ্বীপপূঞ্জ, যেখানে শত শত বৈচিত্রময় প্রাণীর মিথস্ক্রিয়া দেখে ডারউইন পেয়েছিলেন বিবর্তনবাদের ধারনা, সেখানে ছবি তুলেছেন সালগাদো। শতবর্ষী এক কচ্ছপ এর ছবি তুলতে গিয়ে সালগাদোর অনুভুতি, “আমি যেই কৌতুহল নিয়ে ওকে দেখছিলাম, ওর চোখেও ঠিক সেই একই কৌতুহল। বুঝলাম, আমাদের মধ্যে আসলে কোন তফাত নেই। আমরা একই পৃথিবীর সন্তান।” অ্যান্টার্কটিকার বিশাল এক আইসবার্গ তার কাছে মনে হয় কোন স্কটিশ ক্যাসলের মতো; প্রাকৃতিক দুর্গ, যা আমরা ছেড়ে এসেছি বহুবছর আগে। সত্যিই তো, পৃথিবীতে থেকেও আমরা কত দুরে সরে গেছি পৃথিবী থেকেই!

সভ্যতা নামক যন্ত্রদানবের পা পড়েনি এমন স্থান পৃথিবীতে খুব কমই আছে। কাজটা তাই সালগাদোর জন্যে খুব কঠিন হয়ে গিয়েছিল। দশবছর ধরে তিনি খুঁজে বেড়িয়েছেন সেইব স্থান, যেগুলো আজও আদিম পৃথিবীর কথা বলে, যেখানে আজও সভ্যমানুষের থাবা খুব একটা আঁচড় কাটতে পারেনি। সালগাদো চান এই ছবিগুলো আমাদের কে আর একবার ফিরে যেতে বলবে, পৃথিবীকে দেখতে শেখাবে মমতার চোখে। সালগোদোর Genesis একটা আইডিয়া, যা যুগযুগ ধরে মানুষকে শেখাবে কেমন করে পৃথিবীকে ভালবাসতে হয়।

নিজেদের মধ্যে নিজেরা আমরা যুদ্ধ করতে পারি, পারি অর্থহীন অহংবোধ থেকে ধরীত্রিকে ক্ষতবিক্ষত করতে, কিন্তু কতদিন পারি? Genesis একটা বিশাল প্রশ্ন ছুড়ে দেয় এই অহংকারী মানুষের মুখের উপর – ‘পৃথিবী ছাড়া তোমাদের আর কোন আবাসভুমি আছে কি?’
উত্তর খুব পরিস্কার, খুব চাঁছাছোলা। কিন্তু এই প্রশ্নের উপলব্ধি আজকে খুব জরুরী। সময বড় কম।

Salgado genesis-19 Salgado genesis-25 Salgado genesis-14 Salgado genesis-13 Salgado genesis-12 Salgado genesis-10 Fierce winds keep even daytime temperatures low, as this image of a sled dog illustrates Salgado genesis-6 Salgado genesis-2 Salgado genesis-1

 

Add to Buffer
Share on LinkedInShare on Tumblr Share
Posted in Thoughts and comments Tagged , , |

The chronicles of a brutal birth by Kishore Parekh

Bangladesh independence day-1-33.jpg937500[1].jpgBangladesh independence day by Kishore parekh-1.jpgBangladesh independence day by Kishore parekh-10.jpgBangladesh independence day by Kishore parekh-11.jpgBangladesh independence day by Kishore parekh-12.jpgBangladesh independence day by Kishore parekh-13.jpgBangladesh independence day by Kishore parekh-14.jpgBangladesh independence day by Kishore parekh-15.jpgBangladesh independence day by Kishore parekh-16.jpgBangladesh independence day by Kishore parekh-2.jpg°ÊáqW¥ùCó£ë>d—üY}õKBangladesh independence day by Kishore parekh-4.jpgBangladesh independence day by Kishore parekh-5.jpgBangladesh independence day by Kishore parekh-6.jpgBangladesh independence day by Kishore parekh-7.jpgBangladesh independence day by Kishore parekh-8.jpgBangladesh independence day by Kishore parekh-9.jpg931500[1].jpg934500[1].jpg935500[1].jpg936500[1].jpgBangladesh independence day-1-10.jpgBangladesh independence day-1-14.jpgBangladesh independence day-1-16.jpgBangladesh independence day-1-17.jpgBangladesh independence day-1-21.jpgBangladesh independence day-1-22.jpgBangladesh independence day-1-25.jpgBangladesh independence day-1-26.jpgBangladesh independence day-1-27.jpgBangladesh independence day-1-3.jpgBangladesh independence day-1-30.jpgBangladesh independence day-1-32.jpgBangladesh independence day-1-34.jpgBangladesh independence day-1-35.jpgBangladesh independence day-1-36.jpgBangladesh independence day-1-37.jpgBangladesh independence day-1-39.jpgBangladesh independence day-1-40.jpgBangladesh independence day-1-42.jpgBangladesh independence day-1-5.jpgBangladesh independence day-1-6.jpgBangladesh independence day-1-9.jpgkishor_parekh_2_big.jpgtimthumb.jpg

 

A nine months of war translated into three million deaths and an ocean of tears. In the history of the wars that happened and continue to happen in the world, not a single one amounted to such a horrific damage to humanity in such a short time-span.

An unforgettable nine month that gave birth to a country named Bangladesh.

Kishore Parekh was a legendary Indian photojournalist, an idol to numerous budding journalists now a days. The most notable body of work that Kishore produced was on the 1971 liberation war of Bangladesh. The pain and hopelessness in the eyes of the victims and refugees. The determination in the eyes of the young freedom fighters and the helping hands of the allied Indian soldiers. The undignified, insulted corpses of the dead lying on the streets of a country under oppression. The shame and tears of raped mothers and sisters of Bangladesh.

Speaking about the photographs;  Kishore has an amazing capacity of story telling through his works. In his images the perspective and the moment work together in a perfect mix. Consider the image of a little girl sadly looking at a corpse on the street, you will feel that you were also standing right at that scene, witnessing the rape of a nation.

 

(c) Kishore Parekh

 

Or look at this, my favorite image from Kishore’s very personal angle where freedom fighters are on action, while a random army boot on the road works to transform us in time. It makes me feel that I was right inside the heart of the war.

(c) Kishore Parekh

(c) Kishore Parekh

These works are precious which chronicle the 1971 liberation war without any dramatization or any absurd claim. These are the images of what happened.

And what happened is never to be forgotten. Never to be forgiven.

Add to Buffer
Share on LinkedInShare on Tumblr Share
Posted in Stories Tagged , , , , , , , , , , |

The legacy of love for Bangladesh

I was roaming around TSC, DU in the evening of 16th December 2007.  I was a new photographer at that time and was trying to capture something that would encapsulate the spirit of this day. Was I putting much thought into the kinds of images I wanted to capture? Probably not; photographers tend to glorify or justify their images once they finish taking it, but the truth is they mostly follow their instinct while capturing a shot. It’s a photographer’s sense of catching a moment of impact that makes the image successful.

There was a small human chain just opposite to the anti-corruption Raju memorial in TSC. A family of four clad in red green caught my attention. They had two little girls who were wearing head bands with the slogan “Amar Bangladesh (My Bangladesh)”.  The kids were cute and innocent, yet there was a strange complacence and determination in their faces. Suddenly, the younger one looked upward to her sister, maybe she was asking something. As the faces got close, two words, ‘Amar’ and ‘Bangladesh’ from their headbands came together.  I instinctively sensed the composition and pressed the shutter.  Afternoon light was quickly fading into darkness since the sun had just set. I took three images to make sure I got one without any camera shake.

Amar Bangladesh/Mohammad Moniruzzaman

This photo became widely popular. It was being used by people as their profile photos in the social networks, in blogs and even was being stolen by newspapers. The combination of words along with the calm, cute and determined faces probably created an impact in people’s mind. This is one of my most successful images till date.

On March 26, 2008, I spotted them again. Same family, same attire, same innocent faces. This time, I approached them with a smile and talked about the photo I took last year. To my surprise, they have already seen that photo in some newspaper and were surprised to meet the photographer! Life is full of surprises. Didn’t want to lose them anymore, so I collected their contact details.

Amar Bangladesh – II/ Mohammad Moniruzzaman

I called Mrittika’s father on the next 16th December and met them at TSC. Mrittika was growing up fast. I spent some time taking more casual, posed images of them this time. After a few weeks, my cellphone was lost with all the numbers. I hadn’t met them again before I left Bangladesh in August 2011.

Amar Bangladesh – III/ Mohammad Moniruzzaman

Amar Bangladesh – IV/ Mohammad Moniruzzaman

These photos keep reminding me about the love and passion we hold in our heart for Bangladesh and how we pass this torch of patriotism to the youth. Our country is our identity and we must protect this identity for the generations to come.

 

Amar Bangladesh -V/ Mohammad Moniruzzaman
Add to Buffer
Share on LinkedInShare on Tumblr Share
Posted in Stories Tagged , , , , |

The price of freedom: Raghu Rai’s invaluable perspective of 1971

Can a photo write the epic of million tear drops? How can a stolen gaze represent the bloodshed in billion hearts? A war is not a poetry, it is a contrasting prose of wrong and right, vengeance and victory. Yet, to the rest of the world, nothing can represent the impact of a war more successfully than a photograph. Photographers rush to the warzones of the world, take photos and instantly upload them online to make them available to the whole world.

This wasn’t the case in the era of films, which was not a long ago. A substantial amount of time was needed to process and publish the images and even more time to build international response through images. A role of film documenting the atrocities of war is invaluable to the victims because this reminds them the price they had to pay for freedom. Photographs are straightforward when they tell the story of the sufferings of the victims and the atrocities of the aggressors. That’s why they are invaluable evidences against war criminals and aggressor nations.

 

The war of independence against Pakistan in 1971 cost Bangladesh three million lives. Millions were raped and became refugees in the neighboring India. Yet, photographs documenting one of the largest massacre of history is strangely lacking. Even scarce is the images captured by international photographers. We keep seeing only a handful of photos of the freedom fight online now a days.

That’s why it was a great news for us when we learned that prominent Indian photographer Raghu Rai discovered a number of his ‘misplaced’ film roles depicting the ’71 war. These prints, mostly revealing the front-line of the war, are invaluable assets for a Bangladesh stepping into the 42nd year of freedom. The people who committed heinous crimes against humanity during the war are put under trial and the whole country is united right now in demanding the highest possible punishment of these criminals. In this very time these photos reinforce our determination to establish a Bangladesh free of the shameless perpetrators of 71.

 

16017_10151285453027356_1713434056_n.jpg14451_10151285460327356_9312667_n.jpg482657_10200531983479462_1387685419_n.jpg154486_10151285458897356_1168482229_n.jpg154635_10151285450322356_504272482_n.jpg406649_10151285452182356_609739403_n.jpg154932_10151285461497356_2022765893_n.jpg375563_10151285458892356_1329840267_n.jpg17750_10151285449982356_1703534734_n.jpg44667_10151285452137356_229228903_n.jpg17776_10151285454487356_429764587_n.jpg182346_10151285451472356_311455098_n.jpg18242_10151285461142356_2120269298_n.jpg18293_10151285463277356_1108426289_n.jpg184443_10151285455557356_1475085604_n.jpg184500_10151285467077356_1357632935_n.jpg18814_10151285449137356_1265447246_n.jpg14459_10151285465507356_1385146792_n.jpg20695_10151285459242356_309227504_n.jpg262621_10151285453882356_1308287119_n.jpg262714_10151285453197356_805735529_n.jpg312892_10151285455567356_615264222_n.jpg31620_10151285456982356_1822105199_n.jpg382100_10151285460222356_1844345044_n.jpg391977_10151285466457356_922423405_n.jpg397033_10151285450982356_625007483_n.jpg401707_10151285453852356_238329705_n.jpg425638_10151285466462356_1082524144_n.jpg429429_10151285448782356_1448072777_n.jpg45328_10151285454277356_978611262_n.jpg481765_10151285465697356_495703240_n.jpg483426_10151285448637356_2102927632_n (1).jpg523835_10151285465052356_804609781_n.jpg523934_10151285462667356_1721979266_n.jpg526042_10151285456362356_1233660091_n.jpg537641_10151285457667356_929710854_n.jpg548589_10151285456507356_1184323717_n.jpg548743_10151285451482356_665318982_n.jpg561024_10151285464742356_1847795367_n.jpg563659_10151285463762356_919593732_n.jpg563741_10151285462232356_310717136_n.jpg578033_10151285457657356_698150809_n.jpg598621_10151285460857356_980036951_n.jpg60924_10151285464592356_1692547086_n.jpg61329_10151285454877356_1634531469_n.jpg61396_10151285450432356_517014217_n.jpg67824_10151285465557356_1300510133_n.jpg704578_10200531985199505_1673848548_o.jpg772_10151285451532356_737185410_n.jpg793_10151285460242356_352195623_n.jpg858734_10200531982679442_1770667706_o.jpg858740_10200531987599565_385255331_o.jpg858820_10200531990559639_607078781_o.jpg859029_10200531989239606_1109189141_o.jpg859142_10200531979359359_353821746_o.jpg859155_10200531981799420_2051064306_o.jpg859418_10200531987759569_2136230801_o.jpg860682_10200531984399485_225924590_o.jpg

 

I have tried to collect these photographs in a gallery to preserve them. I do not hold copyright of these photos anyway, but felt the urge to share them with you.

Because we must keep in mind the price we paid for our precious.

Add to Buffer
Share on LinkedInShare on Tumblr Share
Posted in Thoughts and comments

In transit

They say we are all in a transit. We are waiting to be transferred to another world. A world no one has ever seen, a world we can only imagine about. Yet, we imagine a thousand good things. Things in return of our good deeds in a transit called Earth. We believe, a better place is waiting for us.

 

That imaginary world can be of thousand different types  though. To someone who never gets to eat good food or never gets to sleep under a roof, that world must be full of fulfilling foods and soft beds. To a man who has a soft bed and enough food to eat, that place must be the best vacation refuge he can ever imagine. To an autocrat, that place must be a bigger region to reign. With a hope for that amazing place, we go to sleep every night. All our sweet dreams comes from that dreamland, and all the nightmares originate from the Earth, a place we call our temporary home. We spend our days waiting for death and nights dreaming about a place that might never exist.

 

Moments, minutes and years. While we wait, precious time sleep through our fingers. When we notice, it is too late. And the train we wait for approaches closer than ever. Only we are now so unsure about what we have been waiting for.

In transit/ Mohammad Moniruzzaman

Add to Buffer
Share on LinkedInShare on Tumblr Share
Posted in Thoughts and comments Tagged , , , , , , , |

World Press Photography Awards 2012

From Maika Elan’s poignant series on homosexual couples in Vietnam to Paul Hansen’s intense photograph on the deadly impact of Israel’s aggression on the lives of Gaza people; World Press Photo Awards 2013 catches the glimpses of an unblessed Earth in 2012. As the most prestigious competition in the field of photojournalism, World Press Photo is entered by thousands of photographers every year, 2012 being no exception. 5,666 photographers. 103, 481 photos. Only 52 winners. You get the idea.

 

World Press Photo of the Year 2012/Gaza Burial/Paul Hansen

The Pink Choice/Contemporary Issues Story/1st prize/Maika Elan

Majeed Saeedi shows a less revealed aspect of war in media, where people tries to live a normal life bearing the trauma of decade long war in their hearts or sometimes right in the heart of a war. Morenatti’s photo from Argentina on the infrastructural and emotional aftermath looked like a poetry to me. An image with shattered window in the foreground and the crying shop owner in the back is a pinnacle of photojournalistic achievement, which blends the art of photography with the impact of raw, realistic message it can convey.

Barcelona Demonstrations/General News Single 3rd Prize/ Emilio Morenatti

 

A couple’s 43 years of journey together is ending in a battle with Alzheimer’s, which only deepens their love. Observing this series by Fausto Podavini will undoubtedly be an enlightening experience for you. Paolo Patrizi’s environmental portraits of migrant sex workers are glamorous, inviting, and anonymous. The images blur the boundary between the reality and a dream, yet somehow shakes the core of the viewer with the nakedness of the actual situation. While portraits of sex workers inside green and golden fields with their faces hidden keeps the viewer wondering and wanting for more, the view of an empty bed and scattered condoms quickly pulls them back into reality. At the same time, the gangs of El Salvador inflict irreparable damage upon themselves and others. Tomas Munita successfully portrays a story of resistance, bruise, truce and tattoos, with a touch of death.

Mirella/Daily Life Story 1st Prize/Fausto Podavini

Migrant Sex Workers/Daily Life Story 2nd Prize/Paolo Patrizi

El Salvador Gang/Daily Life Stories/3rd Prize/Tomas Munita

 

Soren Bidstrup’s single taboo breaking, intimate image of a family’s early morning might come as a shocker to a lot of us. One profound image shows how vulnerable creatures like us face the everyday world with extraordinary strength.

Early Morning/ Daily Life Singles/Second Prize/Soren Bidstrup

 

World conflicts dominate the general news category of WPPA 2013. In the series “Seria under seige”, Alessio Romenzi shows the face of a war of the government against its own people, leaving 60,000 dead. People flee through the birb wires to save their lives and lay dead in the morgues. An American series by Paolo Pellegrin covers a community called Crescent in Rochester, New York. In the end it becomes a tale of human vulnerability and failure to rise against all odds, just like the story by Tomas Munita. It’s hard to pull out such a series from contemporary America where stories are becoming subtler day by day, but Pellegrin did it successfully.

Seria Under Seige/ General News Story/1st Prize/Alessio Romenzi

The Crescent/ General News Story/ Second prize/Paolo Pellegrin

 

Daniel Berehulak’s awarded works brings Japan’s plight to fight back one year after the devastating Tsunami to the world. The faces of the story are contorted in pain, yet everyone of them is a flame of resilience. A story of rising from the ashes must contain both grief and courage. Smiling shipbuilders or the little contemplative visage of a little girl in the cemetery; Berehulak impeccably captures these emotions in a mixture of images.

Japan after the Wave/General News Story/3rd Prize/Daniel Berehulak

 

First and second places singles featured the crushing of humanity in the Syrian civil war. The third prize is an striking image by Dominic Nahr, which masterfully creates a clash of raw reality with mushy landscapes. The photo of a dead Sudani solder floating amid a reflected blue sky is a supreme achievement in aesthetics of photojournalism.

Sudan Border War/General News Singles/3rd Prize/Dominic Nahr

I’ve seen a documentary few days ago where the photographer shows how birds in an island face a cruel fate by consuming bits of plastics that we dispose in the ocean. A winner in nature story category shows a similar fate faced by whale sharks. They have survived 60 million years in the ocean, and now we humans are working hard so that they get an appointment with extinction. Another fine example of nature photojournalism successfully complements a scientific research on emperor penguins. The jury was probably looking for something out of the cage this year and that’s why they chose several photos depicting animals in captivity. Ali Lutfi’s photo of a monkey in a doll’s mask is particularly striking; it appeared like a deformed human baby at first sight.

Emperor Penguins/Nature Story/First Prize/Paul Nicklen

Whale Sharks/Nature Story/3rd Prize/Thomas P Peschak

Mimin/Nature Singles/Second Prize/Ali Lutfi

 

You won’t even imagine the image that you’ll encounter when you start checking the series ‘Forced Love’ by Ebrahim Noroozi. It begins with a humble ‘passport size’ photograph of a girl and then turns into a nightmarish hell. Well, for the subjects of this series a hell would probably serve better than the life they are living. A mother and her child who were burned alive with acid by the husband are desperately trying to remain alive. You can’t look at their faces. You can’t keep your eyes off the shuddering images. The series ends with a defaced Somyeah performing her prayers with deep faith. None but God is there for her anymore.

Victims of Forced Love/Observed Portraits Story/1st Prize/Ebrahim Noroozi

 

Nemanja Pancic’s BW portrait of a little child who survived an intentional ‘family free fall’ to avoid financial problem is particularly haunting. Both his father and mother died in the suicide attempt. The portrait is masterfully done, which will evoke the personal memories of the child inside the viewers.\

Little Survivor/Observe Portraits Singles/1st Prize/Nemanja Pancic

 

‘Staged Portraits’ is a new category added this year in the world press photography awards. Fu Yongjun’s apparently simple photo-story realizes a powerful idea into photographs. Through a series of portraits of a teacher with her little students, he shows how a society of isolation has emerged, where children remain separated from their parents for a long time who are busy working elsewhere. It tells a lot about the industrialization, competition and the change that China is facing during the post-communism era.

Miss my Parents so Much/Staged Portraits Story/3rd Prize/Fu Yongjun

 

Chinese artist Ai Weiwei was a prominent figure of 2012, and continues to be so in 2013 too. Stefen Chow portrayed his undaunted character in one single photo. Interestingly, a somber faced Weiwei holds a smartphone in his hand, probably to show the power of internet activism.

Ai Weiwei/Staged Portraits Singles/2nd Prize/Stefen Chow

 

Perhaps one of the most notable and regrettable events of 2012 was the Israeli strike on Gaza in November. World press photo awards always features photos of wars and atrocities happening worldwide every year. Blood, Gore, Tears, Brutality, Guns. This year, Gaza strike images claimed a large share of the awards. World press photo of the year went to Paul Hansen for his image of two dead children being taken to the funeral. The photo is under heave debate right now for ‘image retouching’ issue; however it doesn’t fail to convey the impact of Israeli aggression on Palestine for decades.

Two particular images struck me cause I have a similar image in my head. An executed collaborator was being kicked by Palestine people. In another frame, a collaborator was being dragged behind a motorcycle. As a Bangladeshi, I clearly remembered an image where ‘Razakars’, the collaborators of Pakistani army during the 1971 Bangladesh independence war were being executed by the freedom fighters. Collaborators are rarely forgiven in the history of wars.

Collaborator/Spot News Singles/3rd Prize/Adel Hana

 

Visit http://www.worldpressphoto.org/awards/2013 to check out all the winning works. Thanks for reading my thoughts on some of the notable images of 2012.

 

Add to Buffer
Share on LinkedInShare on Tumblr Share
Posted in Thoughts and comments